A Web Publisher - An Entrepreneur and A Simple Man.
Recent Updates
  • 7
    0 Comments 0 Shares
  • আজ থেকে প্রায় ৪৭০ বছর আগের কথা।
    ওসমানী সুলতান প্রথম সুলায়মান (যিনি সুলতান সুলেমান, সুলায়মান দ্য ম্যাগিনিফিসেন্ট, সুলায়মান দ্য ল'গিভার প্রভৃতি নামেও পরিচিত) এর স্ত্রী হুররেম সুলতানের ইচ্ছে হলো জনস্বার্থে কিছু করবার। সময়টা ষোড়শ শতকের মধ্যভাগের দিককার। স্ত্রীর এমন চমৎকার ইচ্ছার কথা শুনে ফেলতে পারলেন না সুলতান।
    বেশ কিছুদিন চিন্তাভাবনা, নানা পরিকল্পনা নিয়ে নাড়াচাড়ার পর অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো একটি ওয়াক্‌ফ কমপ্লেক্স তৈরির, যেখান থেকে বিভিন্নভাবে উপকৃত হতে পারবে সাম্রাজ্যের জনগণ। জায়গা হিসেবে নির্ধারণ করা হলো জেরুজালেমকে।
    পরিকল্পনা তো হলো, এবার তাহলে বাস্তবায়নের পালা। শুরুতেই দরকার অর্থ। ফিলিস্তিন ও ত্রিপোলির বিভিন্ন খাত থেকে আসা রাজস্বের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানপাট, পাবলিক বাথ হাউজ, সাবান কারখানা ও ময়দাকল থেকে আসা অর্থও এই ওয়াক্‌ফ কমপ্লেক্স তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, যার নাম রাখা হয় 'হাসেকি সুলতান ওয়াক্‌ফ কমপ্লেক্স'।
    ১৫৫২ সালে এর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। এই কমপ্লেক্সে আছে একটি মসজিদ, ৫৫ কক্ষবিশিষ্ট চিকিৎসালয়, দরিদ্র জনগণের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে একটি রসুইখানা এবং ভ্রমণকারীদের পথের ক্লান্তি মেটাতে একটি সরাইখানা।
    যেসব উৎসের অর্থ দিয়ে এই ওয়াক্‌ফ কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল, সেই অর্থ পরবর্তীতেও ব্যবহৃত হয়েছে এখানে, এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে চালিয়ে নিতে।
    প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৪৭০ বছর হয়ে গেলেও আজও থেমে নেই এই ওয়াক্‌ফ কমপ্লেক্সের জনহিতকর কার্যাবলী। অসহায় মানুষজন আজও খাবারের আশায় ভিড় জমায় এখানে। ওসমানী সাম্রাজ্যের সোনালী সময়ে দিনে কমপক্ষে ৫০০ মানুষকে দু'বেলা করে খাবার দেয়া হতো এখান থেকে। এখনও এই ধারা অব্যহত রয়েছে। রমজান মাসসহ বছরের অন্যান্য সময়গুলোতে এখানে খাদ্যের আশায় আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে, আর সেই মানুষগুলোকে যথাসাধ্য সাহায্য করেও চলেছে তারা।
    4
    0 Comments 0 Shares
  • ১৯১১ সালে রুশ সাম্রাজ্যের গুপ্ত পুলিশ বাহিনী 'ওখরানা'র নথিতে বলশেভিক বিপ্লবী (এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত রাষ্ট্রনায়ক) জোসেফ স্তালিনের ছবি

    📸 উইকিমিডিয়া কমন্স
    ১৯১১ সালে রুশ সাম্রাজ্যের গুপ্ত পুলিশ বাহিনী 'ওখরানা'র নথিতে বলশেভিক বিপ্লবী (এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত রাষ্ট্রনায়ক) জোসেফ স্তালিনের ছবি 📸 উইকিমিডিয়া কমন্স
    5
    0 Comments 0 Shares
  • Rainy Day in Paris, #France 🇫🇷🌧
    Photo by Brent Shavnore
    Rainy Day in Paris, #France 🇫🇷🌧 Photo by Brent Shavnore
    3
    0 Comments 0 Shares
  • Bodo #Norway
    Bodo #Norway
    4
    0 Comments 0 Shares
  • 4
    0 Comments 0 Shares
  • 4
    0 Comments 0 Shares
  • 3
    0 Comments 0 Shares
  • ❝রাসূলুল্লাহর ﷺ অভ্যাস ছিল, যখন কেউ হাদিয়া নিয়ে আসত তা গ্রহণ করার সময় তাকে খুশি করতেন। হাদিয়াদাতাকে খুশি করার জন্য তিনি এমন ভাব প্রকাশ করতেন যে, আমি তো এ জিনিসটি খুঁজছিলাম। এ জিনিসটি আমার খুবই প্রয়োজন।
    .
    এর দ্বারা একে তো হাদিয়াদাতা খুশি হতো যে, আমার উদ্দেশ্য পূরণ হলো৷ এটা হুযুর ﷺ এর সুন্নাত যে কেউ কোনো হাদিয়া দিলে তখন তার একটু প্রশংসা করে দেয়া এবং এমন ভাব প্রকাশ করা যে, এ জিনিসট আমার খুবই প্রয়োজন ছিল।
    .
    বুযুর্গদেরকে দেখেছি যখন কেউ হাদিয়া পেশ করত তখন বলতেন, ভাই আপনি তো খুব ভালো জিনিস নিয়ে এসেছেন৷ এটা আমার দরকারি জিনিস। এর খুবই প্রয়োজন ছিল ইত্যাদি। যাতে হাদিয়া দানকারী খুশি হয়।
    .
    দ্বিতীয়ত হাদিয়া হলো, আল্লাহ তা'আলার দান। তাই এর প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রকাশ করা উচিত। অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করবে না। কেননা অমুখাপেক্ষিতা অকৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত।❞
    .
    ~ মুফতি তাকি উসমানী (হাফি.)
    .
    .
    [ মুফতি তাকি উসমানী (হাফি.), ব্যবসা ও লেনদেনের ইসলামী বিধান, পৃ: ১২৮; অনু: মুফতী কবির আহমাদ আশরাফী, মাকতাবাতুল আযহার, ফেব্রুয়ারি ২০১৫]
    2
    0 Comments 0 Shares
  • টাইটানিক বলে মমির অভিশাপে ডুবেছিল ।এইরকম আজাইরা কথা বিভিন্ন পেজে হয়ত পড়ে থাকবেন ।টাইটানিক বিশাল আকারের বরফের সাথে ধাক্কা খাওয়ায় এর তলদেশ ফেঁটে পানি ভিতরে ঢুকে পড়ে ।এটা কী তাহলে মমির অভিশাপ ।

    নিচের অংশে বিস্তারিত

    টাইটানিক- স্বপ্নের জাহাজ--- কোনো দিনও ডুববে না দাবি করেছিল টাইটানিক। কিন্তু ১৯১২ সালে প্রথম বিহারেই ১৫০০ যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিলাসবহুল টাইটানিক।

    এরপর শুরু হয় ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান। প্রচারিত হতে থাকে নানা রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর কাহিনী। শত বছর পার হয়ে গেলেও আজো মানুষ সঠিক কারণ জানে না! অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। কেউ এর পেছনে কোন না কোন যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ কোনো প্রকার সূত্র ছাড়াই বলছেন টাইটানিক ডোবার পেছনের মনগড়া কাহিনী।

    ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবরে টাইমস জানিয়েছে, এরকমই এক মনগড়া রহস্যময় কাহিনী। টাইটানিক জাহাজে নাকি ছিল মিসরীয় এক রাজকুমারীর অভিশপ্ত মমি । বলা হয় মমির অভিশাপের কারণেই ভাসমান বরফদ্বীপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল টাইটানিক। গল্পটি বহু বছর ধরে প্রচারিত হলেও এর পালে বিশেষ হাওয়া লাগে অস্কার বিজয়ী টাইটানিক ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর।

    সত্যিই কী তাই? এরকমটি বলার অনেক কারণও অবশ্য রয়েছে। সেই রাজকুমারীর নাম ছিল আমেন-রা। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে মারা যান তিনি। ১৮৯০ সালের শেষার্ধে এক ধনী ইংরেজ লুঙ্রের কাছে এক প্রত্নতাত্তিক খননকাজ দেখতে যান। তিনি সেখান থেকেই কেনেন কফিনশুদ্ধ রাজকুমারীর এই মমিটি। এরপর তিনি জাহাজে করে মমিটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন কিন্তু বন্দরে মমিটি গ্রহণ করার জন্য নিজে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। তিনি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। বাস্তবিকই তাকে আর কোনোদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গী ছিল তিনজন। মমির অভিশাপ তাদেরও রেহাই দেয়নি। একজন কিছুদিন পরই মারা যান, দুর্ঘটনায় একজনের হাত কাটা পড়ে আর অপরজন দেউলিয়া হয়ে যান। কফিনটি ইংল্যান্ডে পৌছালে একজন ব্যবসায়ী তা কিনে নেন। এর ফলে সেই ব্যবসায়ীর পরিবারের তিনজন মোটর দুর্ঘটনায় আহত হন এবং তার বাড়িতে আগুন লাগে। মমিটিকে অভিশপ্ত মনে করে সেই ব্যক্তি এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দান করে দেন। মিউজিয়াম এটিকে সাদরে গ্রহণ করল।
    কিন্তু মিউজিয়ামের কর্মচারীরা রাতের বেলা কফিনের ভেতর থেকে তীব্র কান্নার শব্দ শুনতে পেত। সকালবেলা প্রদর্শনী কক্ষের জিনিসপত্রগুলো সব এলোমেলো ভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেল। এরই মধ্যে মারা গেল এক প্রহরী। এ কথা জানতে পেরে এক ফটোগ্রাফার কফিনের ছবি তুলে আনলেন। ছবি ডেভেলপ করার পর ছবিতে যে বীভৎস রূপ তিনি দেখলেন তাতে আত্মহত্যা করেই তিনি মুক্তির পথ খুঁজলেন। ব্রিটিশ মিউজিয়ামও আর এসব সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু মমিটির কুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়েছিল যে, এ থেকে তারা খুব সহজে মুক্তি পায়নি। অবশেষে একজন আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ সবকিছুকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে কিনে নিলেন মমিটি আর টাইটানিকে চড়িয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। আর এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা।

    তবে এই গল্পের আরেকটি ভার্সনে বলা হয়, সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ টাইটানিকের এক নাবিককে ঘুষ দিয়ে মমিটি লাইফ বোটে তোলেন এবং এটি আমেরিকা পৌছায়। এরপর মমিটি আবার হাতবদল হয়ে আরো কয়েকবার সমুদ্রবিহার করে অবশেষে সাগরতলে আশ্রয় নেয়। এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা শিপিং রেকর্ডে খোঁজ করে টাইটানিকে কোনো মমি তোলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে, সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ নাকি এটি গোপনে বিদেশে পাচার করছিলেন।আবার দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কোনোযাত্রীও লাইফবোটে মমি ওঠানোর কথা উল্লেখ করেননি। তাছাড়া কোনো উদ্ধারকারীও মমির কথা তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেননি।

    সম্ভবত এই গল্পের সূচনা হয় ডগলাস মুরে ও টি. ডব্লিউ. স্টিড নামক দুই ইংরেজের কাছ থেকে। তারা দাবি করেন যে, তাদের এক সহযোগী ইজিপ্ট থেকে একটি মমি কিনে তার বাসার বসার ঘরে এটি সাজিয়ে রেখেছিল। পরদিন সকালে দেখা গেল ঘরের ভঙ্গুর জিনিসপত্রগুলো ভেঙে চূরমার হয়ে গেছে। এবার ঘর পাল্টে দেওয়া হলো। কিন্তু পরের সকালে দেখা গেল একই কাণ্ড। দুজনই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমির কফিনটি দেখতে গিয়েছিলেন। শুধুই কফিন, আসলে সেখানে কোনোদিনই কোনো মমি ছিল না। কফিনের ডালার গায়ের ভীতিকর ছবিটি দেখে তারা বুদ্ধি আঁটে। ভাঙচুর আর ভয়ঙ্কর ডালার গল্প দুটি জোড়া দিয়ে নতুন গল্পটি বিক্রি করে দিলেন পত্রিকার কাছে।পরে এই কাহিনীতে ঘটে টাইটানিকের অন্তর্ভুক্তি। এ খবর প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আরো অনেক পত্রিকায়।

    সম্ভবত এই গল্পে টাইটানিকের অংশটুকু ঢোকানোর প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল ১৮৩৮ সালে মেনকরের কফিন হারিয়ে যাওয়া। প্রাচীন রাজত্বকালের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়া এই কফিনটি আনা হচ্ছিল ইজিপ্ট থেকে ইংল্যান্ডে। দ্য বিট্রাইস নামের জাহাজটি কার্টাগিনার কাছে কোথাও ডুবে গেলে মমিটিও সাগরতলে নিমজ্জিত হয়। তবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এসব কাহিনী সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে। আর রাজকুমারী আমেন-রা'র কফিনটি এখনো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বহাল তবিয়তেই আছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক আসে শুধু এই অভিশপ্ত মমির কফিনটি দেখতে। সত্যি ঘটনা যাই হোক না কেন টাইটানিক ডোবার রহস্য কিন্তু আজো রহস্যই রয়ে গেছে।

    কথা হলো যেসব যাত্রী প্রানে বেঁচে গিয়েছিল তারা কেউ-ই
    লাইফবোর্ডে মমি উঠতে দেখেনি । আর উপরেরে ফাউ কথায় বুঝানো হচ্ছে টাইটানিক মমির অভিশাপে ডুবেছিল ।আজব!!!
    টাইটানিক বলে মমির অভিশাপে ডুবেছিল ।এইরকম আজাইরা কথা বিভিন্ন পেজে হয়ত পড়ে থাকবেন ।টাইটানিক বিশাল আকারের বরফের সাথে ধাক্কা খাওয়ায় এর তলদেশ ফেঁটে পানি ভিতরে ঢুকে পড়ে ।এটা কী তাহলে মমির অভিশাপ । নিচের অংশে বিস্তারিত টাইটানিক- স্বপ্নের জাহাজ--- কোনো দিনও ডুববে না দাবি করেছিল টাইটানিক। কিন্তু ১৯১২ সালে প্রথম বিহারেই ১৫০০ যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিলাসবহুল টাইটানিক। এরপর শুরু হয় ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান। প্রচারিত হতে থাকে নানা রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর কাহিনী। শত বছর পার হয়ে গেলেও আজো মানুষ সঠিক কারণ জানে না! অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। কেউ এর পেছনে কোন না কোন যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ কোনো প্রকার সূত্র ছাড়াই বলছেন টাইটানিক ডোবার পেছনের মনগড়া কাহিনী। ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবরে টাইমস জানিয়েছে, এরকমই এক মনগড়া রহস্যময় কাহিনী। টাইটানিক জাহাজে নাকি ছিল মিসরীয় এক রাজকুমারীর অভিশপ্ত মমি । বলা হয় মমির অভিশাপের কারণেই ভাসমান বরফদ্বীপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল টাইটানিক। গল্পটি বহু বছর ধরে প্রচারিত হলেও এর পালে বিশেষ হাওয়া লাগে অস্কার বিজয়ী টাইটানিক ছবিটির ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর। সত্যিই কী তাই? এরকমটি বলার অনেক কারণও অবশ্য রয়েছে। সেই রাজকুমারীর নাম ছিল আমেন-রা। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে মারা যান তিনি। ১৮৯০ সালের শেষার্ধে এক ধনী ইংরেজ লুঙ্রের কাছে এক প্রত্নতাত্তিক খননকাজ দেখতে যান। তিনি সেখান থেকেই কেনেন কফিনশুদ্ধ রাজকুমারীর এই মমিটি। এরপর তিনি জাহাজে করে মমিটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন কিন্তু বন্দরে মমিটি গ্রহণ করার জন্য নিজে উপস্থিত থাকতে পারলেন না। তিনি অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। বাস্তবিকই তাকে আর কোনোদিনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গী ছিল তিনজন। মমির অভিশাপ তাদেরও রেহাই দেয়নি। একজন কিছুদিন পরই মারা যান, দুর্ঘটনায় একজনের হাত কাটা পড়ে আর অপরজন দেউলিয়া হয়ে যান। কফিনটি ইংল্যান্ডে পৌছালে একজন ব্যবসায়ী তা কিনে নেন। এর ফলে সেই ব্যবসায়ীর পরিবারের তিনজন মোটর দুর্ঘটনায় আহত হন এবং তার বাড়িতে আগুন লাগে। মমিটিকে অভিশপ্ত মনে করে সেই ব্যক্তি এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে দান করে দেন। মিউজিয়াম এটিকে সাদরে গ্রহণ করল। কিন্তু মিউজিয়ামের কর্মচারীরা রাতের বেলা কফিনের ভেতর থেকে তীব্র কান্নার শব্দ শুনতে পেত। সকালবেলা প্রদর্শনী কক্ষের জিনিসপত্রগুলো সব এলোমেলো ভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেল। এরই মধ্যে মারা গেল এক প্রহরী। এ কথা জানতে পেরে এক ফটোগ্রাফার কফিনের ছবি তুলে আনলেন। ছবি ডেভেলপ করার পর ছবিতে যে বীভৎস রূপ তিনি দেখলেন তাতে আত্মহত্যা করেই তিনি মুক্তির পথ খুঁজলেন। ব্রিটিশ মিউজিয়ামও আর এসব সহ্য করতে পারছিল না। কিন্তু মমিটির কুখ্যাতি এতটাই ছড়িয়েছিল যে, এ থেকে তারা খুব সহজে মুক্তি পায়নি। অবশেষে একজন আমেরিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ সবকিছুকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে কিনে নিলেন মমিটি আর টাইটানিকে চড়িয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। আর এরপরের ঘটনা তো সবারই জানা। তবে এই গল্পের আরেকটি ভার্সনে বলা হয়, সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ টাইটানিকের এক নাবিককে ঘুষ দিয়ে মমিটি লাইফ বোটে তোলেন এবং এটি আমেরিকা পৌছায়। এরপর মমিটি আবার হাতবদল হয়ে আরো কয়েকবার সমুদ্রবিহার করে অবশেষে সাগরতলে আশ্রয় নেয়। এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা শিপিং রেকর্ডে খোঁজ করে টাইটানিকে কোনো মমি তোলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে, সেই প্রত্নতত্ত্ববিদ নাকি এটি গোপনে বিদেশে পাচার করছিলেন।আবার দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া কোনোযাত্রীও লাইফবোটে মমি ওঠানোর কথা উল্লেখ করেননি। তাছাড়া কোনো উদ্ধারকারীও মমির কথা তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেননি। সম্ভবত এই গল্পের সূচনা হয় ডগলাস মুরে ও টি. ডব্লিউ. স্টিড নামক দুই ইংরেজের কাছ থেকে। তারা দাবি করেন যে, তাদের এক সহযোগী ইজিপ্ট থেকে একটি মমি কিনে তার বাসার বসার ঘরে এটি সাজিয়ে রেখেছিল। পরদিন সকালে দেখা গেল ঘরের ভঙ্গুর জিনিসপত্রগুলো ভেঙে চূরমার হয়ে গেছে। এবার ঘর পাল্টে দেওয়া হলো। কিন্তু পরের সকালে দেখা গেল একই কাণ্ড। দুজনই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে মমির কফিনটি দেখতে গিয়েছিলেন। শুধুই কফিন, আসলে সেখানে কোনোদিনই কোনো মমি ছিল না। কফিনের ডালার গায়ের ভীতিকর ছবিটি দেখে তারা বুদ্ধি আঁটে। ভাঙচুর আর ভয়ঙ্কর ডালার গল্প দুটি জোড়া দিয়ে নতুন গল্পটি বিক্রি করে দিলেন পত্রিকার কাছে।পরে এই কাহিনীতে ঘটে টাইটানিকের অন্তর্ভুক্তি। এ খবর প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আরো অনেক পত্রিকায়। সম্ভবত এই গল্পে টাইটানিকের অংশটুকু ঢোকানোর প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল ১৮৩৮ সালে মেনকরের কফিন হারিয়ে যাওয়া। প্রাচীন রাজত্বকালের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়া এই কফিনটি আনা হচ্ছিল ইজিপ্ট থেকে ইংল্যান্ডে। দ্য বিট্রাইস নামের জাহাজটি কার্টাগিনার কাছে কোথাও ডুবে গেলে মমিটিও সাগরতলে নিমজ্জিত হয়। তবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এসব কাহিনী সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে। আর রাজকুমারী আমেন-রা'র কফিনটি এখনো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বহাল তবিয়তেই আছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শক আসে শুধু এই অভিশপ্ত মমির কফিনটি দেখতে। সত্যি ঘটনা যাই হোক না কেন টাইটানিক ডোবার রহস্য কিন্তু আজো রহস্যই রয়ে গেছে। কথা হলো যেসব যাত্রী প্রানে বেঁচে গিয়েছিল তারা কেউ-ই লাইফবোর্ডে মমি উঠতে দেখেনি । আর উপরেরে ফাউ কথায় বুঝানো হচ্ছে টাইটানিক মমির অভিশাপে ডুবেছিল ।আজব!!!
    4
    0 Comments 0 Shares
More Stories